Friday, August 25, 2017



দারুণ ইয়াম্মি চটপটি :

চটপটি খেতে কার না ভালো লাগে ? কিন্তু ইয়াম্মি চটপটি খেতে সবসময়ই কি বাইরে যাওয়া যায়। রাস্তার পাশের  চটপটির ভ্যান থেকে খাওয়ার মজা অন্যরকম হলেও স্বাস্থ্যের জন্য যে তা ভালো না জানি সবাই। কিন্তু জিভকে সামাল দেয়া যে দুষ্কর!

তবে এই মজার খাবারটির রেসিপি জানা থাকলে কিন্তু মন্দ হয় না! চটপটি খাওয়ার ক্রেভিং হলে চট করে যেন নিজেই বানিয়ে খেতে পারেন তার জন্যই আজকে সবচেয়ে সহজ এবং ইয়াম্মি চটপটির রেসিপি দেয়া হল। তাহলে বানিয়ে ফেলুন দারুণ ইয়াম্মি চটপটি।

উপকরণ:

চটপটির ডাল রান্নার জন্য-

ডাবলি বুট ২ কাপ
আলু মাঝারি সাইজের ২-৩ টা
পেয়াজকুঁচি আধা কাপ
মরিচ গুঁড়া আধা চা চামচ
জিরা গুঁড়া ২ চা চামচ
ধনিয়া গুঁড়া দেড় চা চামচ
বেকিং সোডা ১ চা চামচ
লবন স্বাদমতো
সয়াবিন তেল ২ টেবিল চামচ

তেতুলের টক তৈরির জন্য :

পাকা তেতুল আধা কাপ
শুকনা মরিচ ২ টা
ভাজা জিরা গুঁড়া আধা চা চামচ
বিট লবন ১ চা চামচ
লবন সামান্য
চিনি সামান্য
সরিষার তেল ২ চা চামচ
পানি প্রয়োজন মত

পরিবেশনের জন্য :

সিদ্ধ ডিমের ঝুরি ১ কাপ
শসা কুঁচি ১ কাপ
ধনিয়া পাতা কুঁচি ১ কাপ
কাঁচা মরিচ কুঁচি আধা কাপ
পেঁয়াজ কুঁচি আধা কাপ
নিমকপারা (নিমকি) পছন্দ মত

প্রণালী :

( ১ ) প্রথমে ডাবলি বুট একটি বড় বাটিতে নিয়ে বেশি করে পানি দিয়ে ৫-৬ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। ডিম ও আলু ভালোভাবে সিদ্ধ করে আলু ছিলে হাত দিয়ে ভেঙ্গে ছোট ছোট দানা করে রেখে দিতে হবে । আলু শুধু ভেঙ্গে দিবেন, পেষ্ট করবেন না ।

( ২ ) ডাবলি বুট ভেজানো হলে ভালোভাবে ধুয়ে একটি বড় পাত্রে নিয়ে এর সাথে পেঁয়াজ কুচি, মরিচ গুঁড়া, জিরা, ধনিয়া, বেকিং সোডা, লবন, তেল ও প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে । চাইলে প্রেসার কুকারে সিদ্ধ করে নিতে পারেন, তাড়াতাড়ি হবে ।

( ৩ ) ডাল সিদ্ধ হলে তারপর হলুদ দিতে হবে, আর সিদ্ধ করে ভেঙ্গে রাখা আলুগুলোও এখন দিয়ে নেড়ে দিন। ডালের পানি পছন্দমত ঘন হয়ে এলে লবন দেখে (লাগলে দিয়ে) নামিয়ে ফেলুন । চটপটির জন্য ডাল রেডি, এবার তেতুলের টক তৈরির পালা ।

( ৪ ) এখন তেতুলগুলো ১ কাপ পানিতে ভিজিয়ে রেখে হাত দিয়ে কচলে তেতুলের ক্বাথ বের করে নিতে হবে । তেতুলগুলো নরম হয়ে পানিতে মিশে গেলে তেতুলের বীচি ও আঁশ বেছে ফেলে ছেঁকে নিতে হবে । এবার টক তৈরির জন্য তেতুলের ক্বাথ রেডি ।

( ৫ ) এবার একটি পাত্রে তেল গরম করে শুকনা মরিচ ছিড়ে কুঁচি করে তেলে দিয়ে ভাজতে হবে । মরিচ পুড়িয়ে ফেলবেন না, ভাজা হলে জিরা গুড়া দিয়ে তেতুলের ক্বাথ দিয়ে নাড়তে থাকুন ।

( ৬ ) এরপর এতে বিট লবন, লবন ও চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন । চটপটির জন্য যে তেতুলের টক বানানো হয় তা একটু ঘন হয় আর ফুচকারটা একটু পাতলা হয় । আপনি আপনার প্রয়োজন মত পানি মিশিয়ে পাতলা বা ঘন তেতুলের টক তৈরি করতে পারেন । টেষ্ট করে দেখুন , লবন বা চিনি লাগলে দিন । ২-৩ মিনিট পরেই নামিয়ে ফেলুন, সহজেই তৈরি হয়ে গেল তেতুলের টক । এবার আপনি চটপটি পরিবেশনের জন্য রেডি।

পরিবেশন :

একটি পরিবেশন পাত্রে প্রথমে ডালের মিশ্রণ নিয়ে তার উপর ধনিয়া পাতা কুঁচি, কাঁচা মরিচ কুঁচি, পেঁয়াজ কুঁচি, শসা কুঁচি, সিদ্ধ ডিমের ঝুরি এবং সবশেষে ফুচকার ঠোসা বা নিমকপারা ভেঙ্গে দিয়ে তেতুলের টকের সাথে পরিবেশন করুন দারুণ মজার চটপটি ।

সংরক্ষন :

চটপটির ডাল রান্না করে বক্সে ভরে ডীপ ফ্রিজে রেখে দেয়া যায়, পরে প্রয়োজনে বের করে শুধু গরম করে বাকি উপকরণ দিয়ে পরিবেশন করা যায় । তবে টাটকা বানিয়ে খেতে বেশি মজা ।



টক দই তৈরির খুব সহজ রেসিপি :

রান্না থেকে শুরু করে রূপচর্চায় টক দইয়ের ব্যবহার কতোভাবেই না করা হয়।তাই নিজ হাতে টক দই তৈরির কৌশল জেনে রাখলে সুবিধা অনেকখানি। বাজারের অস্বাস্থ্যকর টক দইয়ের উপকারিতা কতটুকুই বা থাকে বলুন। তাই আজকের রেসিপি আয়োজনে রাখা হল বহুগুণের অধিকারী টক দইয়ের সবচেয়ে সহজ রেসিপি।


উপকরণ :

 দুধ দেড় লিটার
 গুড়া দুধ আধা কাপ
 টাটকা টক দই ৪ টেবিল চামচ

 প্রণালী :

( ১ ) প্রথমে দুধ চুলায় দিয়ে জ্বালাতে হবে । দুধ কিছুটা কমে এলে একটা কাপে অল্প গরম দুধ নিয়ে গুড়া দুধ তার সাথে মিশিয়ে বাকি দুধের সাথে মিশিয়ে দিন । জ্বালিয়ে দুধ অর্ধেক করে নিন আর তারপর চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুন ।

( ২ ) এবার দুধ চামচ দিয়ে নেড়ে নেড়ে একটু ঠাণ্ডা করে নিতে হবে, কিন্তু খেয়াল রাখবেন যেন পুরোপুরি ঠান্ডা না হয়ে যায় । দুধটা হালকা গরম বা কুসুম গরম রাখতে হবে । আবার খেয়াল রাখতে হবে দই মেশানোর সময় দুধ যেন বেশি গরম না থাকে, তাহলে কিন্তু দই জমবে না । দুধে যেন কোন সর না থাকে এজন্য ছেকে নিতে হবে, সর থাকলে দই ভালো জমবে না ।

( ৩ ) একটা বাটিতে আগের টাটকা টক দইটা নিয়ে নরমাল এগ বিটার বা চামচ দিয়ে সামান্য ফেটে নিয়ে কুসুম গরম দুধের সাথে চামচের সাহায্যে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে । এই দইটা কিন্তু অবশ্যই টাটকা হতে হবে আর এতে পানি থাকা যাবে না, পানি থাকলে বানানো দই ও পানি ছাড়বে । দই মেশানোর সময় দুধ এমন গরম থাকবে যেন দই মেশাবার পরেও দুধ হালকা গরম থাকে ।

( ৪ ) এখন যে পাত্রে দই বসাবেন সেটাতে দই মেশানো দুধ টা ঢেলে ভালোভাবে ঢেকে রান্না ঘরে একটা গরম জায়গায় রেখে দিন । বাসায় ওভেন থাকলে ওভেনটা অফ করে ভিতরে দই এর পাত্র রেখে ওভেনের দরজা বন্ধ করে রেখে দিতে পারেন । আর নাড়াচাড়া করবেন না , একবারে ৮-৯ ঘন্টা পরে দেখবেন দই জমে গেছে । তখনি খাওয়ার জন্য ব্যস্ত হবেন না, দইটা ঠান্ডা হয়ে সেট হবার জন্য নরমাল ফ্রিজে রেখে দিন ৩-৪ ঘন্টা ।

 পরিবেশন :

ফ্রিজে ঠান্ডা হয়ে সেট হয়ে গেলে বের করে পরিবেশন করুন । এই উপকরনে ১ কেজি দই হবে । দই বসানোর জন্য মাটির পাত্র ব্যবহার করলেই বেশি ভালো হয় । তবে আপনি চাইলে সিরামিক, কাচ বা প্লাষ্টিক যেকোন পাত্রে দই বানাতে পারবেন । দই জমতে দেবার পর নির্দিষ্ট সময়ের আগে ঢাকনা খুলে চেক করতে যাবেন না, সবচেয়ে ভালো হয় যদি দই রাতে জমতে দেয়া হয় সারারাতে দই জমবে আর সকালে সেট হবার জন্য ফ্রিজে রেখে দিবেন ।

দুধের তৈরি রসমালাই তো অনেক খাওয়া হয়েছে! এবার আম দিয়ে তৈরি রসমালাই চেখে দেখবার পালা। ঝটপট দেখে নিন আম দিয়ে রসমালাই তৈরির পুরো রেসিপি।

উপকরণ :

দুধ ১ লিটার
ভিনেগার বা, লেবুররস ১ কাপ
এলাচ ২টি
গুঁড়া করা চিনি দেড় কাপ
সুজি ২ চা-চামচ
পানি পরিমাণমতো

মালাইয়ের জন্য :

আম রস করা ২ কাপ
দুধ ২ কাপ
কনডেন্সড মিল্ক ১ কৌটা
গোলাপ পানি ৪-৫ ফোঁটা

প্রণালী :

প্রথমে হাঁড়িতে দুধ ফুটিয়ে নিন। ভালোমতো ফুটলে ভিনেগার কিংবা লেবুর রস আধা কাপ ঢেলে দিন। দেখা যাবে দুধ ছানা হয়ে গেছে। যদি না হয় তাহলে আরও ভিনেগার কিংবা লেবুর রস দিয়ে দুধ ফাটাবেন। ছানা হয়ে গেলে, এর থেকে পানি ফেলে দিন। এবার পানি দিয়ে ছানা ধুয়ে একটা পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে ছানাগুলো ভরে পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখুন। এভাবে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখবেন। এরপর ছানা নামিয়ে এর সঙ্গে সুজি বা আটা এবং এলাচ গুঁড়া খুব ভালো করে মেশান।

এবার ছানা দিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করুন। ৩ কাপ পানিতে চিনি ঢেলে অন্য একটা হাঁড়িতে ১৫-২০ মিনিট জ্বাল দিয়ে সিরা তৈরি করুন। জ্বলন্ত চুলায় চিনির সিরার ভেতর আস্তে আস্তে বলগুলো ছেড়ে দিয়ে আগুনের আঁচ কমিয়ে দিন। হাঁড়ির মুখ ঢেকে দিয়ে ১৫-২০ মিনিট জ্বাল দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিন। এবার রসগোল্লাগুলো সিরা থেকে তুলে নিয়ে আলাদা একটা পাত্রে রাখুন।

এবার মালাই তৈরি করতে একটা পাতিলে দুধ নিয়ে জ্বাল দিন। দুধ ঘন হয়ে আসলে কনডেন্সড মিল্ক, আমের রস ঢেলে ৫-৬ মিনিট রান্না করুন।এখন রসগোল্লাগুলো, রান্না থাকা অবস্থায় মালাইয়ের মধ্যে একটা একটা করে ছেড়ে দিন। আরও ৮-১০ মিনিট রান্না করুন। নামানোর আগে উপর দিয়ে গোলাপ পানি ছিটিয়ে দিন। গরম গরম খেতে পারেন আবার ফ্রিজে ঠান্ডা করে খেতেও মজা আমের রসগোল্লা